দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পুনরায় বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি অলংকার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এ দাম বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১৩ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৬ মে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেল স্বর্ণের দাম।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়ার কারণে দেশের বাজারেও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে স্বর্ণের মূল্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির টানাপোড়েনের প্রভাব সরাসরি পড়ছে স্বর্ণবাজারে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক কম স্বর্ণ কিনছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিয়ের গহনা কেনা এখন বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করছেন।
রাজধানীর কয়েকজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, দাম বাড়লেও বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি আগের তুলনায় কমে গেছে। অনেকেই দোকানে এসে শুধু দাম জেনে ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পুরনো স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। ফলে সামনের দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজার আরও অস্থিতিশীল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, স্বর্ণ এখন ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার বিয়ে ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের খরচ নিয়ে নতুন করে চিন্তায় পড়েছেন।
স্বর্ণের বাজারে এ ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।