রাজধানী ঢাকায় ‘মাসিক ভাড়া গাড়ি’ সেবার আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেটটি সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি অনলাইন অ্যাপ ও বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদেরকে ‘বিশ্বস্ত’ ও ‘অভিজাত’ গাড়ি ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দেয়। মাসিক চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তারা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে। শুরুতে ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত নিয়মিত গাড়ি ও ড্রাইভার সরবরাহ করা হয়, যাতে গ্রাহকদের আস্থা তৈরি হয়।
কিন্তু এর পরই শুরু হয় প্রতারণার মূল ফাঁদ। গ্রাহকের বাসা, পরিবার ও ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর চক্রটি বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। কখনও মিথ্যা অভিযোগ, কখনও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। এমনকি নাম প্রকাশ করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
একজন ভুক্তভোগী, যিনি নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন—
“প্রথমে তারা খুব ভালো সার্ভিস দেয়। এরপর হঠাৎ করে ড্রাইভার আসা বন্ধ করে দেয় এবং নানা অজুহাতে টাকা দাবি করতে থাকে। পরে আমার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে হুমকি দিতে থাকে।”
অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে সক্রিয় থাকলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে—যে কোনো সেবা গ্রহণের আগে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একটি অনুসন্ধানী দল ইতোমধ্যে এই চক্রের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রতারণার এই ভয়াবহ চক্র ভেঙে দিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।