
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার থানা বাজার এলাকায় সরকারি ছড়া দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, ছড়ার ওপর স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে প্রায় ২০০ পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নজির সওদাগর, সিরাজ আহমদ (বুলু) ও ফিরোজ আহমদ সরকারি ছড়ার ওপর স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এর ফলে থানা বাজার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে না পেরে আশপাশের বসতবাড়ি, আঙিনা ও কৃষিজমিতে জমে থাকছে। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ চাকমা বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই আমরা পানিবন্দী হয়ে পড়ি। ছড়া দিয়ে পানি নামতে পারে না। চলাচলে খুব কষ্ট হয়। প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার বলেন, “মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই আমাদের উঠানে পানি উঠে যায়। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। ছড়াটি দখলমুক্ত করা হলে আমরা অনেক উপকৃত হব।”
ভুক্তভোগী কৃষক সুশীল চাকমা বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে ঠিকমতো ধান চাষ করতে পারছি না। বৃষ্টির পর দুই থেকে তিন দিন জমিতে পানি আটকে থাকে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি ছড়া দখলের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ছড়াটি দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা আপনাদের কাজ করেন।”
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ভূমি অফিসকে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







