খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার দায়ে মোঃ শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীঘিনালা থানা পুলিশের দেওয়া ইনসিডেন্ট রিপোর্টের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে হাজাছড়া এলাকায় শফিকুল ইসলামকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করা হয়। তার আচরণ ও কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়ভাবে জনসাধারণের শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছিল বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয় এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজা
মোবাইল কোর্টে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শুনানি ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় মোবাইল কোর্ট মামলা নং-২০/২৬ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দণ্ডপ্রাপ্তের পরিচয়
দণ্ডপ্রাপ্ত মোঃ শফিকুল ইসলাম হাজাছড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মোবাইল কোর্টের দণ্ডাদেশের পর বিধি অনুযায়ী তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক
দীঘিনালা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানা গেছে।
‘দৈনিক অপরাধ চক্র’-এর অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে
মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ নয়; অনেক ক্ষেত্রে এর প্রভাব পরিবার, সমাজ ও জননিরাপত্তার ওপরও পড়ে। বিশেষ করে জনসম্মুখে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দীঘিনালার এই ঘটনায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
দৈনিক অপরাধ চক্র মনে করে, শুধু শাস্তি নয়—মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও বিক্রয়চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।







