পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুর এলাকায় এক আমেরিকা প্রবাসী নিজ বাড়ির সামনের সরকারি রাস্তা দখল করে কংক্রিটের ঢালাই দেওয়ায় স্থানীয়দের চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। পৌরসভার ৯৩ নম্বর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের এ সড়কটি এখন বছরের প্রায় সময়ই জলাবদ্ধ থাকে, আর নাগরিক দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমেরিকা প্রবাসী “ফয়সাল মাতুবর” নিজের সাততলা ভবন নির্মাণের সময় রাস্তার সামনের অংশে প্রায় এক ফুট উঁচু কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে ফেলেন। ফলে রাস্তাটির প্রাকৃতিক ঢাল নষ্ট হয়ে গেছে, এবং সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দেয়াল থাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। পূর্বদিকে পৌরসভার রাস্তা কিছুটা উঁচু, আর পশ্চিম দিকে ফয়সালের নিজস্ব উঁচু ঢালাই রাস্তায় পানি পুরোপুরি আটকে যায়।
এ অবস্থায় বর্ষা মৌসুমে এলাকাটি পরিণত হয় একপ্রকার ‘’বারোমাসি সুইমিং পুলে”। কেউ কেউ মজা করে বলেন, “এখানে মাছ চাষ করলে ভালো হতো”। এখন রিকশা চালকরা রাস্তার পানিতেই গাড়ি ধুয়ে নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ—ফয়সালের কেয়ারটেকার মাঝেমধ্যে মোটর বসিয়ে সেই জমে থাকা পানি সেচ দেন নিজের বিল্ডিংয়ের পাশে, যেন ওই পানি আবার অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, ওই ভবনের মালিক রাস্তার পাশে আবার নিজ খরচে এক দেড় ফুট উঁচু সরু রাস্তা ঢালাই করে দিয়েছেন, যা সরকারি রাস্তার চাইতেও উঁচু। এখন মানুষ বাধ্য হয়ে সেই ‘প্রবাসী রাস্তা’ দিয়েই চলাচল করছে, যদিও সরকারি রাস্তা সম্পূর্ণ পানির নিচে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,
“আমরা বহুবার পৌরসভায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কেউ এসে দেখেনি। বর্ষা এলে রাস্তায় হাঁটা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না।”
এদিকে পটুয়াখালী পৌরসভা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “প্রবাসী ফয়সালের অর্থ ও প্রভাবের কাছে পৌরসভা নির্বিকার।”
সচেতন নাগরিকরা দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে ওই অবৈধ উঁচু ঢালাই ভেঙে রাস্তার স্বাভাবিক পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক, যাতে সরকারি রাস্তায় বৃষ্টির পানি প্রবাহ গতানুগতিকভাবে ফিরে যেতে পারে বা আটকে না থাকে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে জলাবদ্ধতার এই অমানবিক ভোগান্তি বয়ে বেড়াতে হবে আরও বহু বছর।