এশিয়া কাপ শেষ হলেও উত্তাপ যেন কমছে না। মাঠের লড়াই শেষ হলেও কথার লড়াই এবং বিতর্ক যেন নতুন করে শুরু হয়েছে। ভারতের কাছে হারের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেই ঘটে গেল এক নাটকীয় ঘটনা। পাকিস্তান দলের অধিনায়ক সালমান আলী আগার আচরণে হতবাক ক্রিকেটপ্রেমীরা।
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতের কাছে পরাজয়ের পর পাকিস্তান দল রানারআপ মেডেল গ্রহণ করে। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি ও সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করেন সালমান। তবে এরপরের ঘটনা ছিল একেবারে অপ্রত্যাশিত।
সালমান যেন খুব তাড়াহুড়া করছিলেন। ট্রফি হাতে নিয়ে মঞ্চ থেকে নামতেই তাকে ডেকে দেওয়া হয় রানারআপ চেক ৭৫ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি টাকা। সেই চেকটি সামনেই ছুড়ে ফেলে দেন তিনি। চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট ক্ষোভ ও হতাশা। এরপর হনহনিয়ে চলে যান পুরস্কার মঞ্চ থেকে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় উঠে যায়। একজন আন্তর্জাতিক দলের অধিনায়কের এমন আচরণকে ‘অপেশাদার’ ও ‘অযথার্থ ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন অনেকেই। মঞ্চে উপস্থিত ব্যক্তিরাও ছিলেন বিস্মিত।
সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য সালমান আলী আগা এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। বরং উল্টো ভারতীয় দলের আচরণ নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ভারত আমাদের সঙ্গে হাত মেলায়নি। মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নেয়নি। ওরা শুধু আমাদের নয়, গোটা ক্রিকেটকেই অসম্মান করেছে। যদি বাকি দলগুলোও এমন আচরণ শুরু করে, তবে ভবিষ্যতে খেলাধুলার পরিবেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?”
এই ম্যাচ এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকেও। ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দাবি করেছেন, ফাইনাল জেতার পরেও দল কোনো উদযাপন করেনি, কারণ পাকিস্তান দলের আচরণ ছিল ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘অশোভন’। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইও বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি এবং আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এরই মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে মন্তব্যে নেমেছেন দুই দেশের রাজনৈতিক নেতারাও। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি পরস্পরকে দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করেছেন।
সব মিলিয়ে, এশিয়া কাপ শেষ হলেও মাঠের বাইরের উত্তেজনা যেন আরও বড় একটি খেলার জন্ম দিয়েছে যার নাম ‘অভিমান, অহংকার আর অপেশাদারিত্ব’।