:জমি দখল, মিথ্যা মামলা, জালিয়াতি ও অপহরণের হুমকির অভিযোগে নিজ সন্তান জাহিদুল হক জুয়েলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৭৫ বছর বয়সী জাহানারা বেগম। শনিবার দুপুরে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ) মিলনায়তনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, জামালপুরের মেলান্দহ থানার মুন্সি নাংলায় “বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস” নামের বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবসার মালিক তার ছোট ছেলে জাহিদুল হক জুয়েল। অল্প সময়েই ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে যান তিনি। টাকার জোরে এলাকায় সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তোলেন। শুরু হয় জমি দখল, জালজালিয়াতি ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি নির্যাতন।
“কবরস্থানের জমিও দখল করেছে”—অভিযোগ মায়ের
জাহানারা বেগম জানান, পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে মা, ভাই ও বোনদের জমি আত্মসাৎ করেছে জাহিদুল। এমনকি সামাজিক কবরস্থানের জমিতেও দখলচেষ্টা চালিয়েছে। প্রতিবাদ করলে বড় ভাইয়ের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে জেলে পাঠিয়েছে। মামলা থেকে বাদ যায়নি মসজিদের ইমামসহ এলাকার সাধারণ মানুষও।
তার দাবি, “পুলিশের ছত্রছায়ায় জাহিদুল হক জুয়েল বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। উল্টো পুলিশ তাকে সহযোগিতা করছে।”
মিথ্যা মামলা, মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকির অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা জানান, জাহিদুল হক জুয়েল একসময় বেকার ছিলেন। পরে কসমেসিউটিক্যাল ব্যবসার নামে অল্প সময়েই অস্বাভাবিক সম্পদশালী হয়ে ওঠেন।
তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, কাস্টমস–এ জাল ইনভয়েস ব্যবহার, ট্যাক্স–ভ্যাট ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন মা জাহানারা বেগম।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করে সেখানে তিনি একটি রিসোর্ট নির্মাণ করেছেন। রিসোর্ট এলাকায় রয়েছে গরু-ছাগল–হরিণের খামারও।
“মায়ের-ভাইয়ের ওপর পুলিশ দিয়ে হয়রানি”—বোনের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে জাহিদুলের বোন সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জামালপুরের পুলিশ সুপার ও মেলান্দহ থানার ওসি জাহিদুল হকের “এজেন্ট” হিসেবে কাজ করছেন। তারা জাহিদুলের নির্দেশে পরিবারকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
তার দাবি, “আমাদের তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মায়ের ওপর পর্যন্ত হাত তোলার ভয় দেখানো হচ্ছে।”
শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান
জাহানারা বেগম দাবি করেন, সামাজিক কবরস্থানের ৪ শতাংশ জমি মসজিদ ও কবরস্থানের নামে ওয়াকফ করে দিতে তার কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন—
“এসব মিথ্যা মামলা তুলে নিয়ে সবাই মিলে শান্তিতে বসবাস করুক—এটাই আমার আকাঙ্ক্ষা। ছেলে–মেয়ে মিলেমিশে থাকলে আমার দোয়া সবসময় থাকবে।”
সংবাদ সম্মেলনে এলাকার ভুক্তভোগী, কবরস্থানের সভাপতি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।