বাহরাইনে অবস্থানরত বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দেশে পালিয়েছেন মমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। পরে অভিযোগ ওঠে, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন তিনি।
রোববার বাহরাইনের আরদ শহরের হালিম কাইফান রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী প্রবাসীরা এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
জানা যায়, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ৭নং বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের কাগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা মাজেদ মিয়ার ছেলে মমিনুল ইসলাম প্রবাসীদের একটি সমিতির দায়িত্বে ছিলেন। এই দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রবাসীর কাছ থেকে সমিতির নামে এবং ব্যক্তিগতভাবে ধার করে ৩০ হাজার বাহরাইনি দিনার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় এক কোটি) আত্মসাৎ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা আত্মসাৎ করার পর তিনি গোপনে বাহরাইন ত্যাগ করে বাংলাদেশে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দেশে খোঁজ নেওয়া হলে জানা যায়, তিনি আবার সৌদি আরবে পাড়ি জমান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বদিউল আলম বাবুল বলেন, “আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই প্রতারকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে যেন আমাদের কষ্টের টাকা উদ্ধার করা হয়, সে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের প্রতারণা শুধু ব্যক্তি ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর মাধ্যমে দেশের সম্মানও নষ্ট হচ্ছে। এজন্য সরকারের কাছে অনুরোধ, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কেউ করতে সাহস না পায়।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী, তাদের মধ্যে ছিলেন মো. স্বপন হাজারী, মাঈন উদ্দিন মজুমদার, কাজী রোমন, আব্দুল হালিম, ফকরুল ফরায়েজী, মনছুর আলম, খুরশিদ আলম, মোস্তফা কামাল, খোকন, শেখ নাছের, রিয়াদ উদ্দিন এবং এমরান খান।
তারা সবাই একমত হয়ে বলেন, প্রতারক মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে টাকা উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।