ঢাকা জেলার আদাবর এলাকার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) একজন ব্যতিক্রমী এবং নিবেদিতপ্রাণ সদস্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন রাশি সমদ্দার। তার কর্মতৎপরতা শুধু পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মানবিক নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে থাকার এই অদম্য স্পৃহা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
২০২০ সালের মে মাসে করোনা মহামারীর ভয়াবহতার মধ্যে আনসার ভিডিপি-তে যোগদানের পর থেকেই তিনি তার সততা ও সাহসিকতার প্রমাণ দিয়ে আসছেন। মোহাম্মদপুর থানার অন্তর্গত আদাবরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী হিসেবে তিনি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। একজন পরিপূর্ণ নারী যোদ্ধা হিসেবে, ফুটপাত থেকে শুরু করে হাসপাতাল পর্যন্ত সর্বত্রই তার মানবিক সেবা অব্যাহত রয়েছে।
রাশি সমদ্দার শুধু তার পেশাগত দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ নন, বরং অবসর সময়েও তিনি জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, মাদকবিরোধী প্রচারণা, বাল্যবিবাহ এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময়, যখন অনেকেই ঘরবন্দী ছিলেন, তখন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করেছেন।
তার এই মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম হলো প্রতি সপ্তাহে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহ করা। নিজের সীমিত সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি নিয়মিতভাবে এই কাজটি করে থাকেন। এছাড়া, তিনি আনসার সদস্যদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণও প্রদান করেন, যা তাকে বাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রথম থেকে তৃতীয় ধাপের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে তিনি তার দক্ষতা আরও বাড়িয়েছেন।
মানুষের বিপদের কথা শুনলেই তিনি ছুটে যান এবং সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করেন। তার এই নিঃস্বার্থ সেবা এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আনসার ভিডিপি থেকে বিভিন্ন সময়ে সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন। রাশি সমদ্দার জানান, তিনি আনসার ভিডিপির সদস্য হতে পেরে গর্বিত এবং এই বাহিনী তাকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অসাধারণ সুযোগ করে দিয়েছে। তার বিশ্বাস, ভালো কাজ করার সুযোগ সবার হয় না, আর তিনি একজন সদস্য হিসেবে মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সাথে যুক্ত হয়ে সর্বদা ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই, আর এটাই আমি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।” রাশি সমদ্দারের এই কর্মস্পৃহা এবং মানবিকতা শুধু তার এলাকাতেই নয়, বরং সমগ্র সমাজে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার এই উদাহরণ অন্যদেরও জনসেবামূলক কাজে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।