ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় নিষিদ্ধ কার্যক্রমের অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ মোট ১৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় এই গ্রেফতার সম্পন্ন হয়।
গ্রেফতার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্যরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান বাদল এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলী (৩২৪ নম্বর)।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিবির সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, “নিষিদ্ধ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, সহিংস পরিকল্পনা ও উসকানির অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে ছিলেন।”
তিনি আরও জানান, “প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কেউ কেউ সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন এবং দলের নাম ব্যবহার করে গোপনে নিষিদ্ধ কার্যক্রমে লিপ্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এদিকে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের অংশ, আবার কেউ বলছেন, বিরোধীদের দমন করার জন্য এটি একটি কৌশল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক দলের ভেতরে থাকা চরমপন্থী বা সহিংস মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আরও তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে অভিযান চালানো হতে পারে।
সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, এই ১৩ জনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের কিছু বিদেশি সংযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।