২৩ আগস্ট ২০২৫ খ্রিঃ ঢাকার মতিঝিলের ৪০,
দিলকুশা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন বিভাগের প্রায় ২০০০-২২০০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচি শুরু হয় সকাল ১২:৩০ঘটিকায়, যেখানে ব্যাংকের বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য, এই আন্দোলনে ৭ জন চাকুরীচ্যুত কর্মকর্তা ও উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আরডিএস অফিসারদের লেন্থ অফ সার্ভিস অনুযায়ী মেইনস্ট্রিমে পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং চাকুরীচ্যুত সাত কর্মকর্তাকে পুনর্বহাল করা। আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, ব্যাংকের নেতৃত্ব তাদের পূর্বের আশ্বাস অনুযায়ী পদোন্নতি এবং পুনর্বহালের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করছে না।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন ২০২৫ খ্রিঃ ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানের সঙ্গে আন্দোলনকারী প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ হয়। এমডি মহোদয় তখন জানিয়েছিলেন যে, আগামী ২৬ জুন ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি উপস্থাপন করা হবে। তবে মিটিং শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৬ জন অফিসারকে বহিষ্কার, ১৬ জনকে সাময়িক দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার এবং শতাধিক অফিসারকে বিভিন্ন জেলায় স্থানান্তরিত করেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, বায়তুল মোকাররমে সংক্ষিপ্ত সভার পর তারা একযোগে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন। ঢাকার বাইরে থেকে ভুক্তভোগী অফিসাররা আন্দোলনে যোগ দিতে রওনা হয়েছে। আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং ব্যাংক প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা বর্তমানে স্বাভাবিক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মাঠে অবস্থান নিয়ে সতর্ক রয়েছে।
উপস্থিত আন্দোলনকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মোস্তফা কামাল ফকির, কামাল হোসেন চৌধুরী, কামাল উদ্দিন, সালাউদ্দিন, আব্দুর রাকিব, বিল্লাল হোসেন এবং সাইফুদ্দিন। তারা বলেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে এবং ব্যাংকের ন্যায়পরায়ণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য সকল ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র চাকুরি ও পদোন্নতির সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সংগঠিত। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড দ্রুত তাদের দাবির প্রতি সংবেদনশীলতা দেখাবে এবং সমস্যাগুলোর ন্যায্য সমাধান করা হবে।
বর্তমানে আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে চলছে, এবং এতে সাধারণ জনগণের চলাচলে কোনো প্রভাব পড়ছে না। আন্দোলনকারীরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, তাদের মৌলিক দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তারা ব্যাংকের সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখবেন।