ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৬ নম্বর হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাকিমউদ্দিন বাজার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ীরা।
প্রধান শিক্ষক ও এক সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
এলাকাবাসীর একাংশ জানায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন এবং সাবেক ইউপি সদস্যও স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। হঠাৎ করে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। ব্যক্তিগত আক্রোশ ও স্বার্থ হাসিলের জন্যই এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।” তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ তারিখ বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে ৩টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাটি ঘটে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, ওই সময় বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছিল এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রশ্ন, অভিযোগে বর্ণিত ঘটনা সত্য হলে বিদ্যালয়ে উপস্থিত অন্য কেউ বিষয়টি জানতে বা দেখতে পাননি কেন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ তারিখও বিদ্যালয়ে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত ছিল। তাদের ভাষ্য, অভিযোগটি সত্য হলে ওই শিক্ষার্থীর নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো তথ্য বা চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় প্রকাশ না পেয়েই ঘটনার ছয় দিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা তাদের কাছে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারা বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করব।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী জানান, সঠিক তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, মিথ্যা অভিযোগকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন তারা।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।







