বরগুনার আমতলীতে একটি পূজার পারিজাত ফুলগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই সংখ্যালঘু পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ওয়াপদা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াপদা সড়কে অবস্থিত একটি পারিজাত ফুলগাছ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজার জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন। পূজা অর্চনার সময় এ গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ ছিল একটি প্রচলিত প্রথা। তবে সম্প্রতি গাছটি কেটে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে গৌতম কর্মকার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় সঞ্জীব কুন্ডু, তাপস কুন্ডু এবং তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে গাছটি কেটে ফেলেছেন। অন্যদিকে, তাপস কুন্ডু দাবি করেন, গাছটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই কেটে ফেলা হয়েছে, এতে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ নিয়ে শুক্রবার সকালে দুই পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় এসিড নিক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতরা হলেন—গৌতম কর্মকার, বীথি কর্মকার, দেবব্রত কর্মকার, বিভাস কর্মকার, শুভ কুন্ডু ও নরজিৎ কুন্ডু। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিনহাজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন- আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সবার যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তারা এখন শঙ্কামুক্ত।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) সাইদুল ইসলাম জানান- সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পূজার ফুলগাছ নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, সামান্য একটি ফুলগাছকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় রূপ নেওয়া উচিত হয়নি। তারা এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন।
এদিকে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সামাজিকভাবে পূজা-অর্চনার সাথে যুক্ত একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা আমতলী জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ধর্মীয় বা সামাজিক প্রতীককে কেন্দ্র করে বিরোধ না বাড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।