খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় অনলাইন জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফির বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্মার্টফোন ও গেমিং অ্যাপের ছদ্মবেশে পরিচালিত এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও যুবসমাজের বড় একটি অংশ। ‘ফ্রি বোনাস’ ও দ্রুত লাভের প্রলোভনে প্রতিদিনই আর্থিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে একের পর এক পরিবার।
উদ্বেগজনক চিত্র (স্থানীয় অনুসন্ধান)
১. জুয়ায় জড়িতদের ৬০–৭০ শতাংশই ১৮–৩০ বছর বয়সী
২. প্রতি ৫ জনে ১ জন কিশোর প্রথমে গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে জুয়ায় ঢুকছে
৩. দিঘলিয়ায় দৈনিক আনুমানিক ১–২ কোটি টাকা অনলাইন বেটিংয়ে লেনদেন
৪. লেনদেনের ৮০ শতাংশের বেশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে
৫. কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতি বেড়েছে ২৫–৩০ শতাংশ
দিঘলিয়া থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন,
“অনলাইন জুয়া একটি নীরব অপরাধ। দৃশ্যমান না হলেও এর ক্ষতি ভয়াবহ। আমরা নিয়মিত সাইবার নজরদারি করছি এবং অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যারা জুয়ার লেনদেনে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান,
“অনলাইন জুয়া ও অনৈতিক কনটেন্ট সামাজিক অবক্ষয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে শিগগিরই অভিযান জোরদার করা হবে।”
আইপিএল, বিপিএলসহ দেশি-বিদেশি খেলাকে কেন্দ্র করে দিঘলিয়ায় অনলাইন বেটিং দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। ক্যাসিনো গেমের আড়ালে স্থানীয় এজেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। প্রতি হাজার টাকায় ৪০–৫০ টাকা কমিশনে অর্থ লেনদেন করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকার অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফিকে দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করলেও প্রযুক্তিগত কৌশল, বিদেশি সার্ভার, উচ্চ মুনাফা ও প্রভাবশালী চক্রের কারণে নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের ভাষ্য—“এখনই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে না তুললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দিঘলিয়ার যুবসমাজকে এই সর্বনাশা চক্র থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।