১২৯তম জন্মদিবসে অমর বিপ্লবীর প্রতি জাতির শ্রদ্ধার্ঘ্য
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন এক নাম, যাঁকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার কাহিনি সম্পূর্ণ হয় না—তিনি পরমবীর শহীদ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর ১২৯তম জন্মদিবসে জাতি আজও শ্রদ্ধা, গর্ব ও গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছে সেই মহানায়ককে, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন দেশের স্বাধীনতার জন্য।
দেশমাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে নিজের সুখ, শান্তি, আরাম, বিলাস, এমনকি যৌবনকেও বিসর্জন দিয়েছিলেন যে মানুষটি—আজ তাঁর জন্মদিন। কিন্তু বিনিময়ে জাতি তাঁকে কী দিয়েছে?
একটি রহস্যময় অন্তর্ধান,
একটি অস্পষ্ট মৃত্যুকাহিনি,
এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রহসন।
নেতাজী ছিলেন সেই বিরল নেতৃত্ব, যিনি কেবল স্বপ্ন দেখাননি—তিনি অস্ত্র হাতে নিয়ে স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছিলেন। আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব”—আজও ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক আহ্বানগুলির একটি।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—
👉 নেতাজীর মৃত্যু কি সত্যিই দুর্ঘটনা ছিল?
👉 নাকি তা ছিল এক সুপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথায় করা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড?
দশকের পর দশক ধরে নেতাজীর অন্তর্ধান নিয়ে তদন্ত, কমিশন, রিপোর্ট—সবই হয়েছে। কিন্তু সত্য আজও অধরা। অনেক ইতিহাসবিদ ও গবেষকের মতে, এই রহস্য আড়াল করে রাখা হয়েছে সচেতনভাবেই। কারণ নেতাজী জীবিত থাকলে স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যেতে পারত—এই আশঙ্কাই কি তাঁর পরিণতির কারণ?
এক নাগরিকের কণ্ঠে আজও শোনা যায় সেই অপরাধবোধ—
“হে পরমবীর নেতাজী! তুমি আমাদের ক্ষমা করো।
তুমি তোমার জীবনের বিনিময়ে আমাদের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে দিয়েছিলে,
আর আমরা বিনিময়ে তোমাকে দিয়েছি রহস্যমৃত্যু।
তাতেও ক্ষান্ত হইনি—আজও তোমার মৃত্যুকে নিয়ে রাজনৈতিক নাটক করছি!”
তবুও সত্য একটাই—
নেতাজী কখনও হারিয়ে যাননি।
তিনি বেঁচে আছেন মানুষের চেতনায়,
বেঁচে আছেন সংগ্রামে,
বেঁচে আছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে।
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু কোনো অতীত নন—
তিনি বর্তমান,
তিনি ভবিষ্যৎ।
কারণ যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দেন, তাঁরা কখনও মরে না।
নেতাজী ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—
এক অমর বীর শহীদ হিসেবে।