কুষ্টিয়ায় ১৯৭৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছয়জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি (অব.) মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম অভিযোগ গঠনের জন্য এক সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহার আরও দুদিন সময় বাড়ানোর আবেদন জানান। উভয়পক্ষের যুক্তি শুনে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৪ অক্টোবর শুনানির জন্য দিন ধার্য করে।
এর আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর এই মামলায় ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত। একই দিনে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে ১৯৭৪ সালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত গণহত্যায় ইনুর সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করা হয়।
শুনানিতে বলা হয়, ওই সময় কুষ্টিয়া অঞ্চলে জাসদের সশস্ত্র শাখার নেতৃত্বে হত্যাযজ্ঞ, গুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। এসব অপরাধে হাসানুল হক ইনু নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। প্রসিকিউশন দাবী করে, তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এক সময় আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইনু। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার নিজ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।
এই মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী শুনানিতে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত হবে কিনা, সে দিকে দৃষ্টি রাখছে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ জনগণ।