রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তারা দাবি জানান, ৫৪৭ জন কর্মকর্তার ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ক আফরিন, মিজানুর রহমান, ফরহাদ ও সাজ্জাদ হোসেন মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এবং যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ করেই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারগুলো আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে একটি নোটিশ জারি করে অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও ব্যয় সাশ্রয়ের কারণ দেখিয়ে ৫৪৭ জন কর্মকর্তাকে একযোগে চাকরিচ্যুত করে। যদিও পরে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের ব্যাংক একাউন্টে চলতি মাসসহ অগ্রিম তিন মাসের বেতন প্রদান করা হয়, তবুও এ ধরনের পদক্ষেপকে তারা অমানবিক এবং অন্যায্য বলে দাবি করেন।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি অনেক কর্মকর্তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তারা অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার ও তাদের পূর্বের কর্মস্থলে পুনর্বহালের দাবি জানান।
এ সময় মানববন্ধনকে ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক এবং নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ নজরদারিতে রাখে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো যে, হঠাৎ চাকরিচ্যুতি শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নয়, তাদের পরিবার ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। মানববন্ধন শেষে তারা শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন।