মিয়ানমার থেকে বৈধ পণ্যের আড়ালে মাদক পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এসময় খাদ্য সামগ্রী ও বস্ত্র বহনকারী একটি নৌযান থেকে সাতজন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদে জানা যায়—মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদী হয়ে একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ টহল দল সকালে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি নৌযান থামানো হলে তল্লাশির সময় খাদ্য সামগ্রী ও কাপড়ের আড়ালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে নৌযানটিতে থাকা সাতজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক ও বিভিন্ন অবৈধ দ্রব্য দেশে প্রবেশ করাচ্ছিল। তারা মিয়ানমার থেকে খাদ্যপণ্য ও কাপড় আনার নামে কৃত্রিম ব্যবসা পরিচালনা করত এবং সেই আড়ালে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক পাচার করত। প্রতিবার সফলভাবে চালান পৌঁছে দিলে চক্রটি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা আরও জানান, পাচারকারীরা অনেক সময় স্থানীয় জেলেদের ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করত। তবে এবার পূর্ব প্রস্তুত টহল দলের কারণে তাদের কৌশল ভেস্তে গেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক প্রবাহের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইয়াবা, আইস ও হেরোইনের চালান এ পথে আসছে বলে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে। এর ফলে কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদক আসক্তি বাড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সফল করতে স্থানীয় জনগণকেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও সীমান্ত দিয়ে বারবার মাদক প্রবেশের চেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্রের সক্রিয়তার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সচেতনতা ও বিকল্প আয়ের পথ সৃষ্টি করাও এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জরুরি।
এ ঘটনায় আটককৃত পাচারকারীদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।