জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব জোটের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, দেশে বর্তমানে আইনের শাসনের পরিবর্তে মবের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা বলেন, রাজনৈতিক সংকট, অনিশ্চিত নির্বাচন, সংবিধান নিয়ে বিতর্ক এবং যুব সমাজের হতাশা দেশের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন। সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সুজন। অনুষ্ঠানে জাতীয় যুব জোট কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জাসদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন যুব জোটের কার্যকরী সভাপতি আমিনুল আজিম বনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম সুমন, সহ-সভাপতি এড. আবু হানিফ, শুভংকর দেব বাপ্পা, প্রদীপ কুমার রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন খান বাচ্চু, শরফুদ্দিন সোহেল, পারভেজ আক্তার শিল্পী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আনোয়ারুল কবির টুটুলসহ যুব জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাসদের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, সহ-সম্পাদক আলী হাসান তরুণ, শ্রমিক জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক কনক বর্মন, এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) নেতারা।
বক্তারা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক যুবসমাজ আজ হতাশা ও দিশাহীনতার মধ্যে পড়েছে। কর্মক্ষম যুবদের কাজে নিয়োগ এবং শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। তারা বেকার যুবকদের তালিকা তৈরি করে সরকার ও বেসরকারি ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থায়নের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
জাসদ নেতারা আরও বলেন, সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় এবং মাদকাসক্তির করালগ্রাস থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি তারা সতর্ক করেন, দেশে শ্রমিক ছাঁটাই, নারী নির্যাতন, শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে।
সভায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মুক্তির দাবি জানানো হয়। নেতারা অভিযোগ করেন, তাকে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে এবং জামিনের সাংবিধানিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জনসহ গ্রেফতারকৃত মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের নিঃশর্ত মুক্তিরও দাবি তোলেন তারা।
বক্তারা একযোগে ঘোষণা দেন, দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে হবে, যুব সমাজকে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে মবের শাসনের অবসান ঘটাতে হবে।