বরগুনার আমতলীতে দরবার শরীফের দান বাক্সের টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনার আমতলী উপজেলার চৌরাস্তা এলাকায়। এ সময় মরহুম ইয়ার উদ্দিন খলিফা ছাহেব (র.) এর মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী দরবার শরীফের দান বাক্স থেকে টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগে মো. ফোরকান আলম মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মৃত মোতাহার উদ্দিন মাঝির ছেলে এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ২নং ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দরবার শরীফের দান বাক্সে ভক্তদের দেওয়া অর্থ অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বলে গুঞ্জন ছিল। তবে গতকাল বিকেলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করার সময় ফোরকানকে হাতেনাতে ধরা হয় এবং পরে পুলিশ তাকে আটক করে।
আমতলী থানা পুলিশ জানায়, আটক ফোরকান আলম মাঝির বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আমতলী থানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভক্তদের দেওয়া টাকা দরবার শরীফের সেবামূলক কাজে ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু এ অর্থ আত্মসাৎ করা ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে প্রতারণা।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দরবার শরীফে আগত ভক্তরা তাদের আন্তরিক বিশ্বাস থেকে দান করেন। কিন্তু সেই দান যদি আত্মসাত হয় তবে মানুষ ভক্তি ও আস্থায় ভাটা ফেলবে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান- এ ধরনের কাজ শুধু ধর্মীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করে না, মানুষের বিশ্বাসও ধ্বংস করে দেয়। আমরা চাই এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলেও তাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক।
আমতলীতে দান বাক্সের টাকা আত্মসাতের এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে আলোড়ন তুলেছে। ভক্ত ও এলাকাবাসী আশা করছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে যেন আর কেউ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দান-কৃত অর্থে হাত না দিতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে।