বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি আবারও জোরালো করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই সনদ কার্যকর না করে দেশে কোনো সাধারণ নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ফুয়াদ বলেন, প্রয়োজনে গণপরিষদ নির্বাচন অথবা হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে এ সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তার ভাষায়- জুলাই যুদ্ধে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে জুলাই সনদ কার্যকরের জন্য, পাঁচ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের নামে তা উপেক্ষা করার জন্য নয়।
নির্বাচনি এলাকা প্রসঙ্গ
আলোচনার শুরুতে তিনি নিজের নির্বাচনি এলাকা বরিশাল-৩ এর উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার নেওয়া উদ্যোগের কথা সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, বরিশাল অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটাতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন এবং এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় রাজনীতি ও ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গ
জাতীয় রাজনীতি নিয়ে ফুয়াদ বলেন, সাম্প্রতিক ডাকসু নির্বাচনে প্রকৃত ভোটারদের চাওয়া বুঝতে বিএনপিসহ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দল ব্যর্থ হয়েছে। রাজনীতির প্রচলিত ধারা সেখানে ভেঙে পড়েছে। তিনি দাবি করেন- চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দখল ও সন্ত্রাসের পরাজয় ঘটেছে এ নির্বাচনে। বর্তমান প্রজন্মের মানসিক চাহিদা যদি রাজনৈতিক দলগুলো উপলব্ধি করতে না পারে, তবে তাদের বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতি অনিবার্য।
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
জুলাই সনদ প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, দেশে সংবিধানের অন্তত ৫০টি ধারা ইতোমধ্যেই লঙ্ঘিত হয়েছে। তখন বিএনপি সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে সোচ্চার হয়নি। অথচ এখন তারা সংবিধানের কথা বলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দেশ কি বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী চলছে? যদি না চলে, তাহলে কেন শুধু নির্দিষ্ট ইস্যুতে সংবিধানের কথা বলা হয়?
জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব
ফুয়াদ স্পষ্ট করে বলেন, প্রয়োজনে জাতীয় সরকার গঠন অথবা হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এরপর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নচেৎ এবি পার্টি নির্বাচন মেনে নেবে না।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব জিএম রাব্বি ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবি পার্টির এ অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষত নির্বাচনকালীন সরকার ও সংবিধান প্রশ্নে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, জুলাই সনদের প্রসঙ্গ সেটিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।