কক্সবাজার শহরের ঝিলংজা ইউনিয়নের উত্তরণ আবাসিক এলাকায় ঘটে গেছে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। স্বামীকে জবাই করে হত্যা ও স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিমল চাকমা নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম রঞ্জন চাকমা। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে কয়েকদিন আগে রাঙ্গামাটি থেকে কক্সবাজারে আসেন আনারস বিক্রির উদ্দেশ্যে। পরিচয়ের সুবাদে তারা আশ্রয় নেন পুরনো পরিচিত বিমল চাকমার ভাড়া বাসায়, যা উত্তরণ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে সবাই একসাথে মদপান করছিলেন। রাতের কোনো একসময় বিমল চাকমা পাশের কক্ষে গিয়ে রঞ্জনের স্ত্রীকে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। স্ত্রী প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে বের হয়ে স্বামীকে বিষয়টি জানান। এতে রঞ্জন চাকমা ও বিমল চাকমার মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত বিমল চাকমা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রঞ্জন চাকমাকে জবাই করে হত্যা করে।
নিহতের স্ত্রী জানান, স্বামীকে খুন করার পর বিমল পালানোর চেষ্টা করে। এসময় তিনি অর্ধনগ্ন অবস্থায় স্বামীর নিথর দেহ জড়িয়ে বিলাপ করতে থাকেন। স্থানীয় কয়েকজন লোক বিমলের হাতে রক্ত দেখতে পেয়ে তাকে আটক করে। পরে তারা ঘরে গিয়ে দেখতে পান রঞ্জনের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে, আর তার পাশে কান্নাকাটি করছেন স্ত্রী।
ঘটনার পর পালানোর সময় বিমলের হাতে রক্ত দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। তারা তাকে ধরে ফেলে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিমল খুনের দায় স্বীকার করে বলে স্থানীয়রা জানান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তারা জানান, বিমল চাকমাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
পুলিশ জানায়, ঘাতক বিমল চাকমা এবং নিহত রঞ্জন চাকমা একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের বাড়ি রাঙ্গামাটি জেলায়। কয়েক মাস আগে বিমল কক্সবাজার শহরের উত্তরণ আবাসিক এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পরিচয়ের সুবাদেই রঞ্জন ও তার স্ত্রী সেখানে অবস্থান নেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের ঘটনা উত্তরণ আবাসিক এলাকায় আগে ঘটেনি। অনেকেই দাবি করছেন, বিমলকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
পুলিশ জানায়, আটক বিমলের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে নিহতের স্ত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
একই এলাকার পরিচিত মানুষের হাতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে হতবিহ্বল স্থানীয়রা। স্বামীকে হারিয়ে রঞ্জনের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। সমাজের মানুষ বলছেন, এ ধরনের অপরাধ শুধু পরিবার নয়, গোটা সমাজের জন্য হুমকি। তাই দ্রুত দোষীর বিচার দাবি করছেন সবাই।