নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাব-১১ এর অভিযানে দুইটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও কার্তুজসহ তিনজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেছে র্যাব-১১ এর আদমজীনগর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ২৫ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১টি বিদেশি রিভলভার (যার গায়ে লেখা ছিল “Made in England”), ১টি বিদেশি ফ্লেয়ার গান, ২ রাউন্ড তাজা গুলি ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত তিনজন সন্ত্রাসী হলো:
১. খোরশেদ (৪৬), পিতা-মুসলিম, মাতা-সাফিয়া খাতুন
২. রিপন (৩০), পিতা-লালমোহন লাল, মাতা-বিপিয়া রাণী
৩. জয় (২৬), পিতা-মো. শহীদ, মাতা-জীবনী বেগম
তিনজনই নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
অবৈধ অস্ত্রের ভয়ভীতি ছড়িয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সিদ্ধিরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ভয়ভীতি ছড়াচ্ছিল। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হুমকি ও এলাকাভিত্তিক দখলদারিত্বের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সংগঠিত অপরাধে লিপ্ত থাকারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
র্যাবের ধারাবাহিক অভিযান ও আস্থা অর্জন
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানিয়েছে, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগানকে সামনে রেখে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক বিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলায় অপরাধীদের গ্রেফতার করে আসছে। দেশের জনগণের মাঝে নিরাপত্তা ও আস্থার জায়গা করে নিতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং তাৎক্ষণিক আভিযানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করছে র্যাব।
র্যাব-১১ এর অধিক্ষেত্রে নানা ধরনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্রের গতিবিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা চলছিল। তারই অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে
গ্রেফতার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনসহ অন্যান্য আইনি ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই অস্ত্র আসলেই কোথা থেকে এসেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে সম্পর্কেও তদন্ত চলছে।
অভিযান চলাকালে র্যাব সদস্যদের উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অভিযানে সফলতা এসেছে বলে জানায় সংস্থাটি।
সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি
স্থানীয় বাসিন্দারা র্যাবের এই সফল অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু লোক ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিল। তাদের গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন- ওরা অস্ত্র দেখিয়ে ছোট-বড় সবাইকে ভয় দেখাত। এখন গ্রেফতারের পর আমরা কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত।
র্যাবের হুঁশিয়ারি
র্যাব-১১ জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অপরাধ, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।