ইসরাইলের কাতার হামলার এক সপ্তাহের মধ্যেই দোহায় জরুরি আরব-ইসলামিক সম্মেলন আয়োজন করেছে কাতার। এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে আরব লীগের সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ অংশ নেয়। গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি এবং গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের অবসান ঘটানো। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি যৌথ সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে, যা অনেকেই “আরব ন্যাটো” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
যৌথ আরব বাহিনীর প্রস্তাব
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল ‘জয়েন্ট আরব ফোর্সেস’ নামের একটি সম্মিলিত সামরিক জোট গঠন। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত এই বাহিনী ন্যাটোর আদলে গঠিত হবে, যেখানে সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় পারস্পরিক সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি থাকবে।
মিশর চায়, এই বাহিনীর সদরদপ্তর কায়রোতে স্থাপন করা হোক। প্রাথমিকভাবে বাহিনীটির কার্যক্রমে বিমান, নৌ এবং স্থলবাহিনী অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী দেশের সেনা সক্ষমতার ভিত্তিতে অবদান নির্ধারিত হবে।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান
সম্মেলনের যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়। জাতিসংঘে ইসরাইলের সদস্যপদ স্থগিত করার আহ্বানের পাশাপাশি, গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশের জোট, গাল্ফ সিকিউরিটি কাউন্সিল (জিসিসি) থেকেও এক বিবৃতিতে বলা হয়- যে কোনো সহযোগী দেশের ওপর হামলা, তা পুরো জিসিসির ওপর হামলার শামিল।
কাতারের আমিরের বক্তব্য
সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ইসরাইলের উদ্দেশে বলেন, “যদি আলোচনার মাধ্যমে জিম্মি মুক্তির চেষ্টা করেন, তবে আলোচনাকারীদের ওপর হামলা কেন?” তিনি বলেন, গাজা যুদ্ধ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে ইসরাইল কাতারে হামলা চালিয়েছে।
সমালোচনাও চলছে
যদিও সম্মেলন থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা বের হয়েছে, তবে বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে হতাশাও দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সম্মেলনের ফলাফল কেবল “নিন্দা জ্ঞাপনেই” সীমাবদ্ধ থাকবে।
ইয়েমেনের এক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন- এই জোটের উত্থানের আগেই মৃত্যু হবে।
যৌথ আরব বাহিনীর প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপর।