প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচন ঘিরে দেশের সর্বস্তরে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-এর সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বৈঠকে সার্জিও গোর প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় পাশে থাকবে।
এসময় দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকট, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবন, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধ- এসব বিষয়ে উভয় পক্ষ মত বিনিময় করেন। অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার ওপর জোর দেন। জবাবে মার্কিন প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, সার্ক দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে, যা দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার জন্য বড় বাধা। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্থাটিকে সক্রিয় করতে উদ্যোগী এবং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ আসিয়ানভুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্তি দেশের প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে।
এছাড়া নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। অধ্যাপক ইউনূসের মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারলে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আরও দ্রুত নিশ্চিত হবে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা সার্জিও গোরকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এই বৈঠক ও আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আরও স্পষ্ট হলো। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাস নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণ ও বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে আস্থা সৃষ্টি করেছে।