জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতীক হিসেবে শাপলা পাওয়ার দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, শাপলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক গ্রহণ করবে না এনসিপি। প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে তারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে শাপলা প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে। এনসিপির ভাষ্য, শাপলা প্রতীক পাওয়া দলটির রাজনীতিতে অবস্থান নিশ্চিত করার অন্যতম চাবিকাঠি।
এনসিপির দাবি, শাপলা প্রতীক বরাদ্দে আইনগত কোনো বাধা নেই। বরং আগের একাধিক বৈঠকে ইসি নিজেই আশ্বাস দিয়েছিল শাপলা বরাদ্দের। এমনকি এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ঘোষণাও এসেছিল। কিন্তু একটি প্রভাবশালী সংস্থার হস্তক্ষেপে ইসি পিছিয়ে যায়। এনসিপির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ইসিকে চিঠি দিয়ে বলেন, জাতীয় প্রতীকের চারটি উপাদানের মধ্যে শাপলা একটি। কিন্তু অন্য তিনটি উপাদান এরইমধ্যে বিভিন্ন দলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেমন বিএনপিকে ধানের শীষ, জেএসডিকে তারা, আর জাতীয় পার্টিকে কাঁঠাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সোনালী আঁশ প্রতীকও তালিকায় রয়েছে। তাই জাতীয় প্রতীক হওয়াই শাপলা বরাদ্দে বাধা নয়।
দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “আমরা আশাবাদী, ইসি বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে যদি শাপলা না দেওয়া হয়, তাহলে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প থাকবে না।”
নির্বাচন কমিশন অবশ্য বলছে, প্রতীক বরাদ্দের নির্ধারিত তালিকায় শাপলা নেই। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “১১৫টি প্রতীকের তালিকায় শাপলা নেই। নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলকে নির্ধারিত প্রতীক তালিকা থেকেই বেছে নিতে হয়।”
এনসিপি বলছে, ইসির এই অবস্থান পক্ষপাতদুষ্ট এবং বৈষম্যমূলক। দলটির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, “ইসি যেভাবে একদলীয় পক্ষ নিচ্ছে, তা নির্বাচন নয় বরং আগেই ঠিক করে দেওয়া ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনার অংশ।”
২২ জুন এনসিপির নিবন্ধন আবেদনে শাপলার পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে ‘কলম’ ও ‘মোবাইল’ থাকলেও ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দলটি কেবল শাপলার দাবিতে অটল হয়ে পড়ে। সেদিন সিইসি নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি নেতারা কড়া অবস্থান জানান। এরপর বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে।
সবশেষে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ফেসবুক পেজে লেখেন, “শাপলাই আমাদের প্রতীক হবে। অন্য কোনো অপশন নাই। শাপলা না পেলে নির্বাচনের মাঠে কি হয়, আমরা তা দেখিয়ে দেব।”
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, শাপলা প্রতীক বরাদ্দ না হলে তা রাজনৈতিক বৈষম্যের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাই শেষ পর্যন্ত যে পথই নিতে হোক, শাপলা প্রতীক আদায়ের লড়াই থেকে পিছু হটবে না তারা।