সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে বাঘের তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে সোয়া দুই কিলোমিটার চওড়া পশুর নদী সাঁতরে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছিল দুটি প্রাপ্তবয়স্ক চিত্রল হরিণ। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মোংলার চিলা ইউনিয়নের সুন্দরতলা গ্রামের জোড়া ব্রিজ এলাকায় এই অসাধারণ ঘটনা ঘটে। প্রকৃতির এই নাটকীয় দৃশ্য স্থানীয়দের মাঝে বিস্ময় আর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা নদী পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত এই হরিণ দুটিকে লোকালয়ে প্রবেশ করতে দেখে তৎক্ষণাৎ বন বিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের বনরক্ষীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হরিণ দুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করে দুপুরের দিকে করমজলের অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়। এই ঘটনা প্রকৃতির শিকারি-শিকার সম্পর্কের এক নিদর্শন হলেও বন বিভাগের তৎপরতায় হরিণ দুটি তাদের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরে যেতে পারে।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার মোহাম্মদ আজাদ কবির বলেন, “সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল থেকে বাঘের তাড়া খেয়ে এই হরিণ দুটি প্রাণ বাঁচাতে নদী পাড়ি দিয়ে লোকালয়ে চলে আসে। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের গতিশীলতার প্রমাণ, তবে এটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “হরিণ দুটিকে নদী থেকে উঠে আসতে দেখে আমরা অবাক হয়েছি। তারা ক্লান্ত ছিল, তবু প্রাণের টানে এত দূর পথ পাড়ি দিয়েছে। বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য তারা বেঁচে গেছে।” এই ঘটনা সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র তুলে ধরে।
প্রকৃতির এই বেদনামিশ্রিত দৃশ্য স্থানীয়দের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। বন বিভাগের সময়োচিত হস্তক্ষেপের কারণে হরিণ দুটি পুনরায় তাদের অরণ্যের স্বাধীন জীবনে ফিরে গেছে। এ ঘটনা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণ ও বন বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব আরও একবার উজ্জ্বল করেছে।