চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চত্বরে একটি পণ্যবাহী কনটেইনারে আগুন লেগে যায়। প্রায় ৪০ ফুট লম্বা ওই কনটেইনারে ছিল মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল এবং কম্পিউটারের সরঞ্জাম। তবে আগুনে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কনটেইনার থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্দরের ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বন্দরের ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নেভানো সম্ভব হয় এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আসা এম ইয়োকোহামা নামের জাহাজের মাধ্যমে ১৯ সেপ্টেম্বর এই কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে এটি বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালে রাখা ছিল। আগুন লাগার সময় কনটেইনারটি খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়নি।
কনটেইনারটিতে মোবাইল ফোনের ব্যাটারিও ছিল, যা আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তবে কাস্টমসের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে কনটেইনারটির বেশির ভাগ পণ্য নিরাপদে বের করা সম্ভব হয়েছে।
বন্দরসচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, “কনটেইনার থেকে ধোঁয়া বের হওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।”
কাস্টমসের উপকমিশনার এইচ এম কবির জানান, ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ায় শুধু কিছু সংখ্যক কার্টন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বাকিটা পণ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দক্ষতা আবারও প্রমাণিত হলো। তবে পণ্যের সুরক্ষা এবং আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান বন্দর হিসেবে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বন্দরের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।