পার্শবর্তী দেশসহ নানা দেশে ১৫/২০ বছর পরেই ব্রীজ বা সেতুর টোল ফ্রী হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেখা যায়নি এমন নিয়মের কোন উৎকৃষ্ট প্রেক্ষাপট।
বলছি পটুয়াখালী সেতুর কথা, যা লাউকাঠি নদীর উপরে দীর্ঘ বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছে।
যে ব্রীজের কথা বলতে গিয়ে একজন সাংসদ সংসদে নানাভাবে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো তৎকালীন সময়ে!
একে তো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মারাত্মক বেহাল দশা। ব্রীজের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ বৈদ্যুতিক খুটি অদৃশ্য। রাতে আলো আপনি এখানে চাইবেন? কার কাছে চাইবেন?
এখানে তো বৈদ্যুতিক খুটিগুলোই কে বা কাহারা নিয়ে গেছে, তারই হদিস নেই।
জানা যায়, কয়েকটি খুটি নাকি ঝড়ে পরে গেছ কিন্তু ঝড়ে পরে গেলে তো ভেঙ্গে আংশিক ঝুলে থাকার কথা কয়েকটি। কিন্তু তারও সত্যতা মেলেনি।
ব্রীজের পথচারী চলাচল স্থলের স্লাবগুলো প্রায় স্থানেই ভাঙ্গা। যে কোন সময়ই আনমনে হাটতে হাটতে নিচে পরে গিয়ে আপনি নিজেই অদৃশ্য হয়ে গেলে, তাতে অবাক হবার কিছু নেই।
বাইকসহ নানা গাড়ি চালাতে গিয়ে যারা ঝাঁকুনি খেতে পছন্দ করেন, তাদের দাওয়াত দিয়ে এই ব্রীজ পারাপার করতে বললে আপনাকে ধন্যবাদসহ কোন উপহার না দিয়ে তারা নিশ্চয়ই যাবে না। কিন্তু যারা ঝাঁকুনি পছন্দ করে না তারা সাবধানের সহিত কলিজার ধকলসহ জীবনের সর্বচ্চো মানের নিরাপত্তা নিয়ে ড্রাইভিং করবেন, অনুরোধ রইলো।
নইলে আপনার আত্মার ছবি পত্রিকায় না আসলেও দেহের ছবি বেলছা দিয়ে কুড়ানো হলে খন্ড বিশেষ ময়নাতদন্তের পর আত্মীয় স্বজনের চিনতে কষ্ট হতে পারে।
গত দশ বছরেও নাকি এই পটুয়াখালী লাউকাঠি ব্রীজে রিপিয়ারিং এর ছোঁয়া লাগেনি। অথচ এখানের টোল প্লাজায় বিশাল দৈত্যাকার অহেতুক ডিজাইন সম্মৃদ্ধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যা জনগণের কী কাজে লাগবে, তা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সংযোগ করেছে তারাই ভালো জানে।
এখানে বিগত দিনে এই ব্রীজের টোল নিয়ে মারামারিসহ মারাত্মক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। তবুও পটুয়াখালী শহরের ছোট্ট একটা পৌরসভার কাছাকাছি ব্রীজের টোলের কাছে হাজারো জনগণ জিম্মি দশায় আজীবন মেয়াদি যন্ত্রণায় ভূগছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের তুলনা:
ভারত, মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে টোল আদায়ের মেয়াদ সাধারণত ১৫–২৫ বছর।
মেয়াদ শেষে সেতুগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত (toll-free) করা হয়।
বাংলাদেশেও একই ধরনের সময়সীমা আইন দ্বারা নির্ধারণ করা যেতে পারলে জনগণ একটু স্বস্তি পেত।
কবে? এই টোল বন্ধ পরিবেশে পটুয়াখালী লাউকাঠি ব্রীজের নান্দনিকতার সৌন্দর্যে জনগণ উপভোগ করতে পারবে তা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও জনগণ না জানলে, আমি নির্ঘাত বলতে পারি মহান সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানে।