একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার নারীদের—যাঁদের এতদিন ‘বীরাঙ্গনা’ নামে অভিহিত করা হতো—রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ও ন্যায়বিচারমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সামাজিক অবহেলা, লজ্জা ও নীরবতার ভার বহন করে আসা এই নারীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা আজ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতির মাধ্যমে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হলো। স্বাধীনতার যুদ্ধ শুধু অস্ত্র হাতে লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না—এই নারীদের ওপর চালানো সহিংসতাও ছিল যুদ্ধেরই একটি নির্মম অধ্যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও পূর্ণতা পেল। এতদিন তাঁদের অবদানকে আলাদা করে দেখা হলেও, এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে তাঁরা ছিলেন একই সংগ্রামের অংশ, একই স্বাধীনতার যোদ্ধা।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বীরাঙ্গনা নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই রাষ্ট্রীয় সম্মান, সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা লাভ করবেন। একই সঙ্গে এটি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
অনেকে মনে করছেন, এই স্বীকৃতি কেবল অতীতের একটি ভুল সংশোধন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্ত বার্তা—মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কোনো আত্মত্যাগই অবমূল্যায়িত হবে না।
রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বীরাঙ্গনাদের প্রতি জাতির দীর্ঘদিনের ঋণ পরিশোধের পথে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।