নাটোরের বড়াইগ্রামে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকসহ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার একই পরিবারের ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার আড়াইমারি তরমুজ পাম্প এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন—
জাহিদুল ইসলাম ফরাজী (৫৮)
তার স্ত্রী সেলিনা বেগম (৫২)
বোন রোসনায়ারা আক্তার ইতি (৪৮)
চাচাতো বোন আয়োয়ারা বেগম (৫২)
চাচাতো ভাবী আমেনা খাতুন আনু (৫০)
শাশুড়ি আঞ্জুমানয়ারা খাতুন (৭৪)
শালিকা সীমা খাতুন (৩৫)
চালক সাহাব হোসেন রুবেল (৩৫), গাংনী, মেহেরপুর
এদের সবাই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদাহ গ্রামের বাসিন্দা।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, ঢাকাগামী একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪৮৬৪) বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তরমুজ পাম্প এলাকায় পৌঁছালে কুষ্টিয়া থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৬-৯৭৯২) সামনে থাকা আরেকটি ট্রাককে ওভারটেক করার সময় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে।
তাৎক্ষণিকভাবে মাইক্রোবাসের ভেতরে থাকা চালকসহ ৫ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আরও একজনের মৃত্যু হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
একটি অসুস্থ পুত্রবধূকে দেখতে গিয়ে পরিবারের প্রায় পুরো সদস্যই সড়কে প্রাণ হারাবে—এমন ট্র্যাজেডি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। নিহতদের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদাহ গ্রামে।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামজুড়ে শোকের মাতম। অনেক বাড়িতে তালা ঝুলছে। শোকাহত স্বজনরা বাকরুদ্ধ,স্তব্ধ প্রতিবেশিরা।
নিহত জাহিদুল ফরাজীর দুই ছেলে বিদেশে থাকেন। বাকি পরিবার মিলে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার নান্দীরামধু গ্রামে অসুস্থ পুত্রবধূ শাফিয়া বেগমকে দেখতে যাচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পথে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।
নিহতদের ভাতিজা ইসমাইল হোসেন ফরাহি জানান, “আমার চাচা-চাচীসহ আত্মীয়রা অসুস্থ বৌমাকে দেখতে যাচ্ছিলেন। এখন তাদের সবাইকে একসাথে লাশ হয়ে ফিরতে হবে ভাবতেই পারছি না।
আইনগত ব্যবস্থা ও মরদেহ হস্তান্তর
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরসহ আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দৌলতপুর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন,এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আমরা ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করছি। সংশ্লিষ্ট থানা ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
একটি অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে গিয়ে যে সফরের শুরু, তা শেষ হলো পরিবারের জন্য অভিশাপ হয়ে। ধর্মদাহ গ্রামের আকাশ যেন আজ আরও ভারী, বাতাস নিঃশব্দ। কান্না, হাহাকার আর শোকাচ্ছন্ন অপেক্ষা—এই এখন দৌলতপুরের বাস্তবতা।