কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সার ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে কীটনাশকের দোকানে সার বিক্রির অপরাধে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের আছারবনিয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচার হয়ে আসছে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত এই সার অবৈধভাবে সংগ্রহ করে পাচারকারীরা মজুত করছে এবং সীমান্ত পথে পাচার করছে। এতে একদিকে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না, অন্যদিকে সার সংকট তৈরি হচ্ছে।
অভিযানের সময় দেখা যায়, সাবরাং আছারবনিয়া এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দু সালামের কীটনাশকের দোকানে সরকার নির্ধারিত নিয়ম না মেনে বিপুল পরিমাণ সার মজুত করে রাখা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত সার ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের অপরাধে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে মজুতকৃত সার জব্দ করা হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, “অবৈধভাবে সার বিক্রি ও পাচারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষকরা যেন সহজে ও সঠিক দামে সার পান, সেটি নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার পাচার হলে দেশের কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ব্যবসা আরও প্রসার লাভ করে।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্ত অঞ্চলে সার পাচার একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রভাবশালী একটি মহল কৃষকের প্রাপ্য সার কিনে তা গোপনে পাচার করে বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি না থাকলে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানের ফলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে সার পাচার ও মজুতদারি অনেকটাই কমে আসবে এবং কৃষকরা উপকৃত হবেন।