ঢাকার মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি প্রধান কার্যালয়ের সামনে মাঠ সহকারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মঙ্গলবার (০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন মাঠ সহকারী অংশ নেন।
দীর্ঘদিনের দাবি
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা প্রায় ১৫ বছর যাবৎ মাঠ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হওয়া সত্ত্বেও তারা স্থায়ী নিয়োগ পাচ্ছেন না। বর্তমানে ৭০৬ জন মাঠ সহকারী চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, একই ধরনের কাজে অন্য ব্যাংকে যারা স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাচ্ছেন, অগ্রণী ব্যাংক তাদের বঞ্চিত করছে।
অবস্থান কর্মসূচির চিত্র
আন্দোলনকারীরা অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ২ নম্বর গেইটের সামনে অবস্থান নেন। তারা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার হাতে নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগান ছিল “জিয়ার সৈনিক, এক হও” এবং “খালেদা জিয়া” প্রভৃতি। একপর্যায়ে তারা বসে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনের পটভূমি
এর আগে গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মাঠ সহকারীদের একটি প্রতিনিধি দল চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন এবং মঙ্গলবার সেটি বাস্তবায়ন করেন।
অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেন, আগামীকাল (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে অগ্রণী ব্যাংকের এমডির সঙ্গে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করতে পারবেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন: ১। মোঃ হেলাল উদ্দিন, ২। হাসান লেলিন ৩। তানিয়া সুলতানা ও ৪। জহিরুল ইসলাম।
অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্লেষণ
এ আন্দোলনের কারণে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এতদিন ধরে মাঠ সহকারীরা যে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, তা ব্যাংকের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের দাবি যৌক্তিক হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, অন্যথায় ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, যদি এবারও তাদের দাবির বাস্তবায়ন না হয় তবে আরও কঠোর কর্মসূচির পথে যেতে তারা বাধ্য হবেন।
অগ্রণী ব্যাংকের মাঠ সহকারীদের দীর্ঘদিনের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামীকাল এমডির সঙ্গে বৈঠকের ফলাফলের ওপর আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে। তবে আপাতত আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় এলাকাবাসী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।