কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবা বিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) রাতে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী পশ্চিম পাড়া এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় পুলিশ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে এবং একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে।
টেকনাফ থানা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম চলাকালে একটি মোটরসাইকেলকে সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলে দুই আরোহী থাকলেও সংকেত পেয়ে একজন পালিয়ে যায়। অপরজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তীতে তার বহন করা ব্যাগ ও মোটরসাইকেল তল্লাশি করে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম জমির উদ্দিন (২৫)। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ০২নং ওয়ার্ডের খারাগ্যাঘোনা এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে এবং মাতা হাছিনা বেগমের সন্তান। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় থেকে ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত। পালিয়ে যাওয়া অপর সহযোগীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় টেকনাফ থানা পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইয়াবা পাচার রোধে প্রতিনিয়ত কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা এই এলাকায় ইয়াবা পাচার বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এ ধরনের নিয়মিত অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এলাকায় যুব সমাজকে রক্ষার জন্য ইয়াবা কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, টেকনাফকে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী এই উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত ইয়াবা পাচারের চেষ্টা চালানো হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে প্রায়শই বড় ধরনের চালান জব্দ হলেও মাদক ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো মূল্যে ইয়াবা চক্রকে নির্মূল করা হবে।