রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একদল চাকরিপ্রার্থী লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আজ তোদের ১৫ তম অতিবাহিত হচ্ছে। তারা দাবি করছেন, করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের বয়সসীমা ও সুযোগের বৈষম্যের কারণে তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিন বছরের করোনা দুর্যোগে অনেকের বয়সসীমা অতিক্রান্ত হয়েছে, অনেকে চাকরির প্রস্তুতি হারিয়েছেন। এর ফলে বিপুলসংখ্যক মেধাবী তরুণ-তরুণী এখনো সরকারি চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন না।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, গত ১৬ বছরে এটাই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বেশি বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি। বিশেষ করে ৩২ বছর বয়সসীমা পূর্ণ করা প্রার্থীদের জন্য সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। তারা বলেন, সংবিধানের ২৮(৪) ও ২৬(৩,৪) ধারা অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ইতিবাচক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। করোনাকালীন সময়ের দীর্ঘ ক্ষতির কারণে সরকার যদি তাদের জন্য বয়সসীমায় ছাড় দেয়, তাহলে তারা পুনরায় সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শ্লোগান দেন এবং সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা অভিযোগ করেন, অন্য অনেক খাতে করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন হলেও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি এখনো সুবিচার করা হয়নি।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বলেন, “আমরা কারো অনুকম্পা চাই না। আমরা শুধু ন্যায্য অধিকার চাই। করোনার কারণে আমাদের তিনটি বছর হারিয়ে গেছে, কিন্তু সরকার যদি সাময়িকভাবে বয়সসীমা শিথিল করে, তবে আমরাও আমাদের প্রতিযোগিতার সুযোগ ফিরে পাব।”
প্রতিবাদকারীরা জানান, তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে শিক্ষিত বেকার যুবকদের জীবনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে আহ্বান জানান।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা অবস্থান করছেন এবং কর্মসূচি আরও বেগবান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।