খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঁকড়া জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সোমবার (২৫ আগস্ট ২০২৫) দুপুর আনুমানিক ১৩:৫০ ঘটিকায় বিসিজি স্টেশন কয়রা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটসহ প্রায় ৮৫০ কেজি কাঁকড়া জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন এলাকায় অবৈধভাবে আহরণকৃত এসব কাঁকড়া পাচারের উদ্দেশ্যে কপোতাক্ষ নদীর ঘড়ি লাল বাজার সংলগ্ন ঘাটে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঁকড়াগুলো আটক করে। তবে কাঁকড়া বহনকারী বোটের মালিকদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে জব্দকৃত কাঁকড়াগুলো বন আইনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একই দিন বিকাল ১৭:০০ ঘটিকায় কোবাদক ফরেস্ট অফিসে হস্তান্তর করা হয়। আর ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট মালিকপক্ষকে মুচলেকার মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়।
বিসিজি স্টেশন কয়রা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের অবৈধ আহরণ ও পাচার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে কাঁকড়াসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী নির্বিচারে আহরণ হলে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণে নিয়মিত টহল জোরদার করা হচ্ছে।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল কোস্ট গার্ডের এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সুন্দরবন শুধু দেশের নয়, বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এখানে অবৈধ শিকার ও আহরণ রোধ করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে। তারা অবৈধ কাঁকড়া আহরণে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কাঁকড়ার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই অবৈধভাবে আহরণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তবে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থার কারণে এ কার্যক্রম ক্রমশ কমে আসছে।
কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করছি সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষা করতে। অবৈধ কাঁকড়া, মাছ বা অন্য কোনো সম্পদ আহরণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সুন্দরবন রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ আহরণ বন্ধ করা সম্ভব হবে।