খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় এক স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ আগস্ট ২০২৫) দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পারভিন (৪২), স্বামী মো. আজাদ হোসেন, দক্ষিণ সরই, সদর থানা, বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা। তিনি চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে মূল গেট সংলগ্ন ফুটপাথে নাজমুলের কাপড়ের দোকানের সামনে কেনাকাটা করার সময় আকস্মিকভাবে দুই নারী তার গলার স্বর্ণের চেইন টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
আটক দুই নারী হলেন-
১) স্বপ্না (৩৬), স্বামী ধনঞ্জয়, সাং বাবুগঞ্জ, থানা চিতলমারি, জেলা বাগেরহাট ও ২) রত্না (৩৮), স্বামী অজ্ঞাত, সাং বাবুগঞ্জ, থানা চিতলমারি, জেলা বাগেরহাট।
হঠাৎ টান অনুভব করে পারভিন তৎক্ষণাৎ ছিনতাইকারীদের হাত চেপে ধরে ফেলেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই নারীকে আটক করে মারধর করেন। এতে উভয় নারী আহত হন।
পরবর্তীতে সোনাডাঙ্গা থানার টহল গাড়ির পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত স্বপ্না ও রত্নাকে তারা আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি হাসপাতাল এলাকা ও এর আশপাশে চুরিচামারি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। ফলে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা বাড়ছে। তারা প্রশাসনের কাছে হাসপাতাল এলাকা ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক স্বপ্না ও রত্নার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া তারা কোনো সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সঙ্গে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোনাডাঙ্গা থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “হাসপাতালের মতো ব্যস্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধ অগ্রহণযোগ্য। আটক দুই নারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সচেতন মহলের মতে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলে এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।