কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শেখ মেহেদী হাসান তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কয়রা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেন।
মিথ্যা সংবাদের নেপথ্যে প্রতিহিংসা?
লিখিত বক্তব্যে শেখ মেহেদী হাসান বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের শেখ সাহেবের মোড় এলাকায় সংঘটিত একটি হরিণের মাংস পাচারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি চক্র তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করে এবং সংবাদ প্রকাশ করে।
তিনি দাবি করেন, অজিয়ার গং নামে পরিচিত একটি চক্র হরিণের মাংস পাচারে জড়িত। গ্রামবাসীরা এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তাঁর নাম উল্লেখ করায় পাচারকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করে প্রতিশোধ নিতে চায়। অথচ ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র
সংবাদ সম্মেলনে শেখ মেহেদী বলেন, তাঁর এলাকার একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক একটি চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তিনি সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা, কাঠ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বরাবরই সোচ্চার ছিলেন। সেই কারণে একটি অসাধু মহল তাকে তাদের ‘বাধা’ মনে করে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে চায়।
তিনি বলেন- আমি সুন্দরবনের পাশে থেকে সবসময় মানুষের কল্যাণে এবং পরিবেশ রক্ষায় কাজ করেছি। এজন্য অনেক সময় অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ী ও শিকার চক্রের বিরাগভাজন হয়েছি।
মানববন্ধন ও সংবাদ প্রচার ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি যেসব সংবাদ প্রচারিত হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে, তা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্যই করা হয়েছে। এসব সংবাদে যথাযথ তথ্য-উপাত্ত না থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
শেখ মেহেদী বলেন- আমি কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। বরং আমি নিজেই পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছি। তাই আজ আমি মিথ্যা সংবাদের শিকার।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা
সংবাদ সম্মেলনে শেখ মেহেদী হাসান প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন- আমি চাই প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হোক এবং আমার নামে যারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
তিনি আরও বলেন- আমি গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানাই, আপনারা সত্য অনুসন্ধান করুন। যাচাই না করে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা একজন নিরপরাধ মানুষকে সামাজিকভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা
সংবাদ সম্মেলনে এলাকার একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান এবং মিথ্যা সংবাদ প্রচার রোধে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেন।
কয়রার মতো প্রান্তিক এলাকায় এখনও সংবাদকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কাউকে সামাজিকভাবে বেকায়দায় ফেলানো হয়ে থাকে। শেখ মেহেদী হাসানের অভিযোগ সেই চিত্রই তুলে ধরে। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ তদন্ত করে, তাহলে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে- এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।