নিউইয়র্কে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্যারিসের মেয়র অ্যানে হিদালগো। বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্রীড়া, সামাজিক উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক মানবিক সংকট—বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে ড. ইউনূস জানান, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী সাধারণ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন শুধু একটি নিয়মিত ভোটগ্রহণ নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।”
প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে সামাজিক ব্যবসার ধারণা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন ড. ইউনূস। বৈঠকে তিনি ভবিষ্যতের সব অলিম্পিক—বিশেষত ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক—কার্বন নিরপেক্ষ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, মেয়র অ্যানে হিদালগো ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “আপনার কাজ ও অঙ্গীকার মানবতার জন্য এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।” তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় তহবিল বৃদ্ধির আহ্বান জানান এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, একদিন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিরাপদ ও মর্যাদাসম্পন্নভাবে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারবে।
ড. ইউনূস জানান, জাতিসংঘ আগামী সপ্তাহে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে, যার মূল লক্ষ্য হবে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বৈশ্বিক মনোযোগ নিশ্চিত করা।
বৈঠকে সামাজিক ব্যবসা এবং মানবিক সহযোগিতা বিষয়ে দুই নেতা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
বৈঠকের শেষপর্যায়ে ড. ইউনূস মেয়র হিদালগোকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।