গাজীপুর জেলার মাওনা উত্তর পাড়া এলাকায় জাবের স্পিনিং মিল-এর পাশ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা এখন যেন অঘোষিত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কলকারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের বাসা-বাড়ি থেকে প্রতিনিয়ত এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে করে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাপনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট কোনো বর্জ্য ফেলার স্থান না থাকায় এবং যথাযথ তদারকির অভাবে প্রতিদিনই ট্রাক, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে এখানে আবর্জনা এনে ফেলা হচ্ছে। প্লাস্টিক, পচনশীল বর্জ্য, শিল্পকারখানার অবশিষ্টাংশসহ নানা ধরনের ময়লা জমে বিশাল স্তূপ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টিপাত হলে এসব ময়লা পানির সঙ্গে মিশে আশপাশের রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ, যা ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখানে বসবাস করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সারাক্ষণ দুর্গন্ধে থাকা যায় না। আমাদের বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, কিন্তু কোনো কর্তৃপক্ষ এসে দেখেও না।”
আরেক বাসিন্দা সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। তারা এসে দেখে গেছেন, আশ্বাসও দিয়েছেন—কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এলাকাকে বসবাসযোগ্য করে তোলার জোর দাবি জানান তারা।
সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরের মাওনা উত্তর পাড়ার এই সমস্যাটি দীর্ঘদিনের হলেও এখন তা চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও সমাধান না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।