কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় বজ্রপাতে দুই নারীসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন উপজেলার নালা দক্ষিণা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের মেয়ে মমতাজ বেগম (৩৭), তার বোন জাকিয়া (২৩), এবং খোদে দাউদপুর গ্রামের রাহিনুর ইসলামের ছেলে রাশেদ মিয়া (২২)।
রোববার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হোমনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতরা ভবানীপুর খেয়াঘাট এলাকায় উজানচর-ঘাগুটিয়া খেয়া পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে হঠাৎ করে আকাশ মেঘে ছেয়ে যায় এবং গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। খেয়াঘাট এলাকায় তখন বেশ কয়েকজন মানুষ জড়ো হয়েছিলেন পারাপারের জন্য। বজ্রপাত এতটাই তীব্র ছিল যে মমতাজ, জাকিয়া ও রাশেদ মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
নিহত মমতাজ বেগম ও জাকিয়া আপন দুই বোন। তাদের এমন করুণ মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার ব্যাপারে এলাকাবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে। তবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সরকারি সহায়তা কামনা করেছে নিহতদের পরিবার। স্থানীয় প্রশাসন থেকেও নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাত বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে একটি সাধারণ কিন্তু প্রাণঘাতী ঘটনা হয়ে উঠেছে। প্রতি বছরই অসংখ্য মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। কৃষিকাজ, খেয়া পারাপার কিংবা মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে আশ্রয় নেওয়ার জন্য দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনও পূর্বাভাস দিয়ে আসে না। তাই সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে প্রাণহানি কমাতে।