কুনমিং (চীন), ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ – চীনের উদ্যোগে গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ এটাকে ‘অনানুষ্ঠানিক’ বলে অভিহিত করেছে এবং কোনো জোট গঠনের কথা অস্বীকার করেছে, তবু আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা এতে ভারত-বিরোধী কৌশলের ছায়া দেখছেন।
১৯ জুন ২০২৫-এ চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন চীনের ভাইস ফরেন মিনিস্টার সান উইডং, বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী এবং পাকিস্তানের অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বেলুচ ভিডিও লিঙ্কে যোগ দেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি, সমুদ্রবিজ্ঞান, জলসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যুব বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিন দেশ একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
চীন ও পাকিস্তান এটাকে ‘ত্রিপক্ষীয় মেকানিজম’ বলে অভিহিত করলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেছেন, “আমরা কোনো জোট গঠন করছি না। এটা কোনো তৃতীয় পক্ষকে টার্গেট করে নয়।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ:
ভারতীয় মিডিয়া ও বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে ‘ভারতকে ঘিরে ফেলার’ চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। এটাকে সার্কের বিকল্প বা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) সম্প্রসারণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সম্প্রতি বলেছেন, এই ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়।
এই সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার জিওপলিটিক্সে নতুন মোড় আনতে পারে কি না, তা সময়ই বলবে। তদন্ত ও আলোচনা চলছে। এই উদ্যোগ শান্তি ও উন্নয়নের পথে নাকি নতুন উত্তেজনার কারণ হবে – সেটাই এখন প্রশ্ন।