দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের সঙ্গে তার একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও বাংলাদেশে আসবেন। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ইতিমধ্যে গত ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার তদারকি করছেন।
তারেক রহমান একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন বলে জানা গেছে। ফ্লাইটটি সকাল ১১:৫৫ মিনিটের দিকে ল্যান্ড করার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনার জন্য বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে তারেক রহমান নিজে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিমানবন্দরে জমায়েত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক রহমানের আগমনের পর তিনি প্রথমে এভারকেয়ার হাসপাতালে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন, এরপর গুলশানের বাসভবনে যাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই ফেরা বিএনপির প্রচারণাকে নতুন গতি দেবে। তিনি লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করলেও সরাসরি দেশে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার এটাই প্রথম সুযোগ।
দেশবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।