পূর্বের নকশায় নদীর উপর ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যান বসানোর সিদ্ধান্ত ছিল। সেতুর প্রশস্ততা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ মিটার। পরিবর্তিত নকশায় নদীর মধ্যে কোন পিলার থাকবে না, দুই প্রান্তের দুইটি পিলারের সাথে সংযোগ স্থাপন করবে ১৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যান। সেতুর প্রশস্ততা ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৩ মিটার। ব্রিজের মধ্যে বাঁক থাকায় ২৮টি পিলারের মধ্যে ৭টি পিলারের আরসিসি ডিজাইনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে স্টিল গাডার ডিজাইন ব্যবহার করা হবে। এতে সেতুর খরচ ও নির্মাণে সময় বেশী লাগবে। এই প্রস্তাব সরকার অনুমোদন করলে সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে।
জানা গেছে, সেতুর শহরপ্রান্তের রেলিগেটের রাজঘাট এলাকায় রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণের জন্য খুলনার সড়ক বিভাগ, রেলওয়ে বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষে ১ জন করে মোট ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রেলওয়ের ১ দশমিক ০৪৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এদিকে সেতুর প্রশস্ততা বাড়ায় কয়েকটি পিলারের নকশায় সংশোধন আনতে হবে। এছাড়া দৌলতপুর মুহসিন মোড়ের আগে এপ্রোচ সড়কে একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করতে হবে। ভৈরব সেতুর জন্য দুইপ্রান্ত মিলে মোট ৭ দশমিক ০৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক জানিয়েছেন, অনেক বিষয় বিবেচনা করে ভৈরব সেতুর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নদীর গভীরতা ঠিক রাখতে নদীর মধ্যে কোন পিলার রাখা হচ্ছে না। সেই জন্য স্প্যানের দৈর্ঘ্য বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া ব্রিজের বাঁক ঠিক রাখতে কয়েকটি পিলারে স্টিল গাডার ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভৈরব সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের (করিম গ্রুপ) প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এস এম নাজমুল বলেন, নদীতে নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে ডিজাইনের পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে এই সেতুর পিলারের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ২৮টি পিলারের মধ্যে ১২টি পিলারের কাজ শেষ হয়েছে।
সেতু প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, খুলনার সাথে দিঘলিয়া উপজেলা ও নড়াইল জেলার সংযোগ স্থাপনের জন্য ভৈরব নদের উপর ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভৈরব সেতু নামে একনেকে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। স্টিল স্ট্রাকচারের তৈরী ১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬শত ১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণ ব্যয় ৩শত ৩ কোটি টাকা, জমি অধিগ্রহণের ব্যয় ২শত ৮১ কোটি টাকা ও বাকি টাকা সেতু সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য বরাদ্দ হয়। ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (করিম গ্রুপ) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের ২৪ মে দিঘলিয়া প্রান্তে নির্মাণকাজ শুরু করে। দফায় দফায় সময় বৃদ্ধির পর সর্বশেষ সেতুটি নির্মাণের শেষ সময় ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন। কিন্তু নকশা পরিবর্তন ও জমি অধিগ্রহণ জটিলতার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগামী ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।