-মাহ্ফুজ নবীন
“ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫”
বাংলাদেশে ২০২৫ সাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির এক কঠিন বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) দেশে “২,৯১১টি হত্যা মামলা” দায়ের হয়েছে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় “১১টি” খুনের ঘটনা নির্দেশ করে। এই সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা, চাঁদাবাজি, গ্যাং যুদ্ধ এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতাকে দায়ী করে বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) হত্যা মামলার সংখ্যা ছিল “১,৯৩০-১,৯৩৩টি”, যা প্রতি মাসে গড়ে ৩২০টিরও বেশি। জানুয়ারিতে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০, মার্চে ৩১৬, এপ্রিলে ৩৩৮, মে মাসে ৩৪১ এবং জুনে সর্বোচ্চ ৩৪৪টি মামলা দায়ের হয়। এই প্রবণতা বছরের বাকি মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকায় পূর্ণ বছরের সংখ্যা “৪,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার” আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ২০২৪ সালের ৪,১১৪টি মামলাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
“রাজধানী ঢাকায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত”
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৮৫টি এবং ঢাকা মহানগরী এলাকায় ৩৫২টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে প্রথম নয় মাসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেগাসিটি ঢাকায় জনসংখ্যার চাপ, রাজনৈতিক দমন, ব্যক্তিগত বিরোধ, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজি হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ। অনেক ঘটনায় পুরোনো অস্ত্রের ব্যবহার এবং গ্যাং ওয়ারের ছায়া দেখা যাচ্ছে।
“মানবাধিকার সংস্থার চিত্র আরও উদ্বেগজনক”
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) এর তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দশ মাসে গণপিটুনিতে অন্তত “১৮৪ জন নিহত” হয়েছেন, যা আইনের শাসনের অভাবকে তুলে ধরে। এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
“সরকারের প্রতিক্রিয়া”
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বারবার আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “মামলা বাড়লেও এর অর্থ সবসময় অপরাধ বৃদ্ধি নয়; অনেক পুরোনো ঘটনার মামলা এখন দায়ের হচ্ছে।” তবে বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, পরিসংখ্যান বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারে না।
দেশের নাগরিকরা এখন প্রশ্ন তুলছেন: কবে নাগাদ এই হত্যার চক্র থামবে? সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং আইন প্রয়োগের শক্তিশালীকরণই একমাত্র পথ বলে মনে করেন অনেকে।
(সূত্র: পুলিশ সদর দপ্তর, প্রথম আলো, বণিক বার্তা, আইন ও সালিশ কেন্দ্র)