কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে মাছ ধরার জালের ভেতর কৌশলে লুকানো ৩০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে তিনজন জেলেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে আসামি করা হলেও তিনি পলাতক রয়েছেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোররাতে টেকনাফ উপকূলবর্তী এলাকায় মাছ ধরার নৌকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় নৌকার জালের মধ্যে একটি প্লাস্টিকের প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটটি খোলার পর দেখা যায়, বিশেষভাবে মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট রাখা হয়েছে। গণনা শেষে মোট ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নৌকায় থাকা তিন জেলেকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত আসামিরা হলেন-
আব্দুল্লাহ (৩০), পিতা নজির আহমেদ, মোঃ জহির আহমেদ (৫০), পিতা হাবিবুর রহমান, মোঃ কেফায়েত উল্লাহ (১৮), পিতা নজির আহমেদ। তারা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের উত্তর নাজিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এছাড়াও একই গ্রামের ইমাম হোসেন (৩০), পিতা গুরা মিয়া নামের আরেকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি অভিযানের সময় পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। এরই ভিত্তিতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয় এবং মঙ্গলবারের সফল অভিযানে এ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার সম্ভব হয়। তারা আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জেলেরা ইয়াবা পাচারের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে।
উদ্ধার করা ইয়াবার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারচক্রের পেছনে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে কুখ্যাত। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়ই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হলেও পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশলে মাদক আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করেছে, যেকোনো মূল্যে এ মাদক প্রবাহ রোধে তারা বদ্ধপরিকর।