বরগুনার আমতলীতে সরকারি অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে মজুদ করা সার জব্দ করেছে প্রশাসন। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে এ বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমতলী উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মজনু চৌকিদার (৬০), পিতা মৃত কালু চৌকিদারের বাড়ি এবং তার মালিকানাধীন মুরগির খামার থেকে ডিলারশিপ ছাড়া অবৈধভাবে মজুদ করা ৬২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ইউরিয়া, ডিএপি ও পটাশসহ বিভিন্ন প্রকার সারের সরকারি বাজারমূল্য আনুমানিক ৮০ হাজার ২৫০ টাকা বলে জানায় প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজনু চৌকিদার দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়া সার মজুদ করে কৃষকদের কাছে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতেন। এতে সাধারণ কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। অভিযানের খবর পেয়ে মজনু চৌকিদার এবং তার স্ত্রী হেনা আক্তার বুলবুল (হলদিয়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য) পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন- অভিযানে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে। এটি স্পষ্টতই কৃষি আইন ও সরকারের নির্দেশনা লঙ্ঘন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবৈধ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালিত হবে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণে অবৈধ ব্যবসা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। জব্দকৃত সারের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় কৃষকরা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সার মজুদের কারণে তাদের ন্যায্যমূল্যে সার সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছিল। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার সার বিতরণে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অবৈধভাবে মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।