ঢালিউড চলচ্চিত্রের এক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল অভিনেত্রী শাবনূরের জন্মদিন আজ। ১৯৭৯ সালের এই দিনে যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পারিবারিক নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। প্রখ্যাত নির্মাতা এহতেশাম তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখেন শাবনূর—যে নামেই তিনি বাংলা সিনেমার আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আলো ছড়িয়েছেন।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে, ১৯৯৩ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে শাবনূরের। প্রথম চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। বিশেষ করে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর সঙ্গে তাঁর জুটি ঢালিউডে সৃষ্টি করে ইতিহাস।
১৯৯৪ সালে জহিরুল হক পরিচালিত ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সালমান শাহ-শাবনূর জুটির যাত্রা শুরু হয়। একই বছর শাহ আলম কিরণ পরিচালিত ‘সুজন সখী’ চলচ্চিত্রের রঙিন পুনর্নির্মাণেও দর্শকপ্রিয়তা পায় এই জুটি। এরপর একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দেন তাঁরা। ১৯৯৫ সালে ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ১৯৯৬ সালে ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘তোমাকে চাই’, এবং ১৯৯৭ সালে শিবলি সাদিক পরিচালিত ‘আনন্দ অশ্রু’—সবগুলোই দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়। সালমান শাহ-শাবনূর জুটির মোট ১৪টি চলচ্চিত্র বক্স অফিসে সফলতা লাভ করে।
সালমান শাহের অকালপ্রয়াণের পরও শাবনূরের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। চিত্রনায়ক রিয়াজের সঙ্গে তাঁর জুটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। এছাড়া মান্না, ফেরদৌস ও শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গেও তিনি উপহার দিয়েছেন একাধিক সফল চলচ্চিত্র।
অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শাবনূর দশবার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া দুবার বাচসাস পুরস্কার এবং ২০০৫ সালে ‘দুই নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য লাভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
দর্শকপ্রিয়তা, সফলতা ও পুরস্কারে ভরপুর এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী এই নায়িকার ৪৬তম জন্মদিনে তাঁর প্রতি রইল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।