ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দুই দেশের ডাক পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী সোমবার, ২৫ আগস্ট থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্থগিতাদেশ স্থায়ী নয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাওয়া গেলে দ্রুতই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের কড়া শুল্কনীতি ভারতের উপর প্রভাব ফেলছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং সর্বশেষ ৬ আগস্ট আরও ২৫ শতাংশ যুক্ত করে মোট ৫০ শতাংশে উন্নীত করেন। এর সঙ্গে ডাক পরিষেবার সুবিধাও সীমিত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কেবলমাত্র নথিভুক্ত ভারতীয় ডাক-এভিয়েশন কোম্পানিগুলোই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এর ফলে একাধিক ভারতীয় ডাক পরিবহন সংস্থা তাদের কার্যক্রমে বিঘ্নের কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “সাম্প্রতিক এই জটিলতা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা আশা করছি, শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে পারব। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।”
বর্তমানে, দুই দেশের মধ্যে ডাকযোগে পণ্য আদান-প্রদানের একটি বড় অংশ স্থগিত থাকায় ব্যবসায়িক খাতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
আলোচনা চলমান থাকলেও কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা হয়নি।