যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি এইচ-ওয়ান-বি ভিসার ফি বাড়িয়ে এক লাখ ডলার নির্ধারণ করার পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ভারতীয়রা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে চীন চালু করেছে ‘কে-ভিসা’, যা উন্নত প্রযুক্তি খাতে প্রতিভাবান বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে পারবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে চালু হতে যাওয়া চীনের কে-ভিসা মূলত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অঙ্কশাস্ত্রভিত্তিক (STEM) পেশাজীবীদের লক্ষ্য করে তৈরি। এটি আগের আর-ভিসার উন্নত সংস্করণ। কে-ভিসার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এই ভিসার জন্য চীনের কোনো নিয়োগকর্তার আমন্ত্রণপত্র প্রয়োজন নেই। ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।
এই ভিসা নিয়ে বিদেশি নাগরিকরা চীনে গিয়ে শুধু চাকরিই নয়, গবেষণা, শিল্প-স্থাপন ও ব্যবসায়ও অংশ নিতে পারবেন। সদ্য স্নাতক, গবেষক ও পেশাজীবীদের জন্য এটি বিশেষ সুবিধাজনক। স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রিধারী, স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে গবেষণা বা শিক্ষকতায় যুক্ত এমন ব্যক্তিরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি খাতে চীন বর্তমানে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে—বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে। সেজন্যই তারা বিশ্বজুড়ে প্রতিভা খুঁজছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতির কড়াকড়ি অনেককে বিকল্প ভাবতে বাধ্য করছে।
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরবিন্দ ইয়েলেরি বলেন, “চীন অনেক আগে থেকেই ভারতের আইআইটি থেকে প্রকৌশলী নিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। যদি এইচ-ওয়ান-বি না মেলে, তাহলে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের বড় একটি অংশ চীন বা তাইওয়ানের দিকে ঝুঁকতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, চীনে কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে বিদেশিদের জন্য, অনেকটাই ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ ভিত্তিক। আবেদন, নিয়োগ, বাসস্থান—সবই দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফি বাড়ানোর ফলে এইচ-ওয়ান-বি প্রার্থীদের সংখ্যা কমতে পারে, যার লাভ তুলবে এশিয়ার উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো। চীনের কে-ভিসা তাই হতে পারে ভারতীয়দের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প।